বরিশালের গৌরনদীতে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি সভাকে কেন্দ্র করে রবিবার (২৭ জুলাই) দুপুরে দলের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হন, যাদের মধ্যে একজনকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি অডিটোরিয়ামে, যেখানে কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে উপজেলা বিএনপি একটি প্রস্তুতি সভার আয়োজন করে। তবে ওই সভায় আমন্ত্রণ না পেয়ে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু নিজ উদ্যোগে উপস্থিত হন।
মিন্টুর অভিযোগ, সভায় অংশ নিতে গেলে সদস্য সচিব শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান ও তার আত্মীয়রা তাকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। এ নিয়ে মিন্টুর কর্মীরা প্রতিবাদ করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং এক পর্যায়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।
সভা শেষে বের হয়ে যাওয়ার সময় মিন্টুর এক সহযোগী, ৪ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি মো. রমজান, একা পড়ে গেলে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। গুরুতর আহত রমজানকে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
অন্যদিকে সদস্য সচিব শরীফ হান্নান দাবি করেন, ‘এটি ছিল একটি পূর্বপরিকল্পিত হামলা। সভা চলাকালে একদল দুর্বৃত্ত এসে তার দুই-তিনজন কর্মীকে মারধর করে।’
সংঘর্ষে জড়িত ছাত্রদল নেতা জসিম শরীফের মন্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
গৌরনদী মডেল থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম জানান, ‘ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।’
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, দলের অভ্যন্তরীণ এই ধরনের বিরোধ বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির কার্যকারিতা ও মাঠের রাজনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে আন্দোলন-সংগ্রামের প্রস্তুতির সময় এমন সংঘর্ষ নেতৃত্বের অদূরদর্শিতা ও সাংগঠনিক দুর্বলতা স্পষ্ট করে।





